সাওম বা রোজা নিয়ে ইসলামিক হাদীস-২ [ বুখারী শরীফ ]
১৮৬৯। ইবরাহীম ইবনু মূসা (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত , তিনি বলেন , দু’(দিনের) সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) ও দু’ (প্রকারের) ক্রয়- বিক্রয় নিষেধ করা হয়েছে , ঈদুল ফিতর ও কুরবানীর (দিনের) সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) এবং মুলামাসা ও মুনাবাযা (পদ্ধতিতে ক্রয়- বিক্রয়)হতে।
১৮৭০। মুহাম্মদ ইবনুল মূসান্না (রহঃ) যিয়াদ ইবনু জুবাইর (রহঃ) থেকে বর্ণিত , তিনি বলেন , এক ব্যাক্তি এসে (‘আবদুল্লাহ) ইবনু ‘উমর (রাঃ) -কে বলল যে , এক ব্যাক্তি কোন এক দিনের সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করার মানত করেছে , আমার মনে হয় সে সোমবারের কথা বলেছিল। ঘটনাক্রমে ঐ দিন ঈদের দিন পড়ে যায়। ইবনু ‘উমর (রাঃ) বললেন , আল্লাহ তা‘আলা মানত পুরা করার নির্দেশ দিয়েছেন আর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই (ঈদের) দিনে সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করতে নিষেধ করেছেন।
১৮৭১। হাজ্জাজ ইবনু মিনহাল (রহঃ) আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, যিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে বারটি যুদ্ধে অংশগ্রহন করেছেন , তিনি বলেন , আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে চারটি কথা শুনেছি, যা আমার খুব ভাল লেগেছে। তিনি বলেছেন , স্বামী অথবা মাহরাম (যার সঙ্গে বিবাহ নিষিদ্ধ)পুরুষ ছাড়া কোন নারী যেন দুই দিনের দূরত্বের সফর না করে। ঈদুল ফিতর ও কুরবানীর দিনে সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) নেই। ফজরের সারতের পরে সূর্যোদয় এবং ‘আসরের সালাত (নামায/নামাজ)-এর পরে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কোন সালাত (নামায/নামাজ) নেই। মসজিদে হারাম , মসজিদে আকসা ও আমার এই মসজিদ ব্যতীত অন্য কোন মসজিদের উদ্দেশ্যে কেউ যেন সফর না করে।
১৮৭২। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ‘আয়িশা (রাঃ) ও ইবনু ‘উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তাঁরা উভয়ে বলেন , যাঁর নিকট কুরবানীর পশু নেই তিনি ছাড়া অন্য কারও জন্য আইয়্যামে তাশরীকে সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করার অনুমতি দেওয়া হয় নাই।
১৮৭৩। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) ইবনু ‘উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত , তিনি বলেন, যে ব্যাক্তি একই সঙ্গে হাজ্জ (হজ্জ) ও ‘উমরা পালনের সুযোগ লাভ করল সে ‘আরাফাতের দিবস পর্যন্ত সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করবে। সে যদি কুরবানী না করতে পারে এবং সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম)ও পালন না করে থাকে তবে মিনার দিনগুলোতে সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করবে। ইবনু শিহাব (রহঃ) ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ইবরাহীম ইবনু সা‘দ (রহঃ) ইবনু শিহাব (রহঃ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
১৮৭৪। আবূ ‘আসিম (রহঃ) ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত , তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘আশূরা (আশুরা/আসুরা/আসূরা)র দিনে কেউ চাইলে সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করতে পারে।
১৮৭৫। আবূল ইয়ামান (রহঃ) ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন , রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথমে ‘আশূরা (আশুরা/আসুরা/আসূরা)র দিনে সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালনের নির্দেশ দিয়েছিলেন , পরে যখন রমযানের সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) ফরয করা হল তখন যার ইচ্ছা (আশূরা (আশুরা/আসুরা/আসূরা)র) সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করত আর যার ইচ্ছা করত না।
১৮৭৬। ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা (রহঃ) ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন , জাহিলিয়্যাতের যুগে কুরাইশগণ ‘আশূরা (আশুরা/আসুরা/আসূরা)র সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করত এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও এ সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করতেন। যখন তিনি মদিনায় আগমন করেন তখনও এ সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করেন এবং ত পালনের নির্দেশ দেন। যখন রমযানের সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) ফরয করা হল তখন ‘আশূরা (আশুরা/আসুরা/আসূরা)র সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) ছেড়ে দেয়া হল , যার ইচ্ছা সে পালন করবে আর যার ইচ্ছা পালন করবে না।
১৮৭৭। ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা (রহঃ) হুমায়দ ইবনু ‘আব্দুর রাহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত , যে বছর মু‘আবিয়া (রাঃ) হাজ্জ (হজ্জ) করেন সে বছর ‘আশূরা (আশুরা/আসুরা/আসূরা)র দিনে (মসজিদে নববীর) মিম্বরে তিনি (রাবী) তাঁকে বলতে শুনেছেন যে, হে মদিনাবাসিগণ! তোমাদের ‘আলিমগণ কোথায়? আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, আজকে ‘আশূরা (আশুরা/আসুরা/আসূরা)র দিন , আল্লাহ তা‘আলা এর সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) তোমাদের উপর ফরয করেননি বটে , তবে আমি (আজ) সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করছি। যার ইচ্ছা সে সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করুক যার ইচ্ছা সে পালন না করুক।
১৮৭৮। আবূ মা’মার (রহঃ) ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত , তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় আগমন করে দেখতে পেলেন যে , ইয়াহুদীগণ ‘আশূরা (আশুরা/আসুরা/আসূরা)র দিনে সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন : কি ব্যাপার? (তোমরা এ দিনে সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন কর কেন?) তারা বলল , এ অতি উত্তম দিন , এ দিনে আল্লাহ তা’আলা বনী ইসরাঈলকে তাদের শত্রুর কবল হতে নাজাত দান করেন , ফলে এ দিনে মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : আমি তোমাদের অপেক্ষা মূসার অধিক নিকটবর্তী , এরপর তিনি এ দিনে সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করেন এবং সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালনের নির্দেশ দেন।
১৮৭৯। ‘আলী ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহঃ) আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত , তিনি বলেন , ‘আশূরা (আশুরা/আসুরা/আসূরা)র দিনকে ইয়াহুদীগণ ঈদ মনে করত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তোমরাও এ দিনে সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন কর।
১৮৮০। ‘উবায়দুল্লাহ ইবনু মূসা (রহঃ) ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত , তিনি বলেন , আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে ‘আশূরা (আশুরা/আসুরা/আসূরা)র দিনের সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) র উপরে অন্য দিনের সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম)কে প্রাধান্য প্রদান করতে দেখি নাই এবং এ মাস অর্থাৎ রমযান মাস (এর উপর অন্য মাসের গুরুত্ব প্রদান করতেও দেখি নাই )।
১৮৮১। মক্কী ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) সালামা ইবনু আকওয়া ‘ (রাঃ)থেকে বর্ণিত , তিনি বলেন , নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলাম গোত্রের এক ব্যাক্তিকে লোকজনের মধ্যে এ মর্মে ঘোষণা দিতে আদেশ করলেন যে , যে ব্যাক্তি খেয়েছে , সে যেন দিনের বাকি অংশে সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করে আর যে খায় নাই , সে যেন সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করে। কেননা আজকের দিন ‘আশূরা (আশুরা/আসুরা/আসূরা)র দিন।
Friday, 9 February 2018
সাওম বা রোজা নিয়ে ইসলামিক হাদীস-২ [ বুখারী শরীফ ]
Related Posts
Load comments
Subscribe to:
Post Comments (Atom)